কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :
শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন- দেশে জনস্বাস্থ্যের প্রতি দীর্ঘদিনের অবহেলার ফলেই হামসহ সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিলে বর্তমান পরিস্থিতি অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব ছিল।
২০ এপ্রিল (সোমবার) সকালে সিলেটের সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারকে একের পর এক জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে- প্রথমে সীমিত পরিসরে ডেঙ্গু, আর এখন হাম সংক্রমণ। এর সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নির্দেশনায় ইতোমধ্যে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তিনি জানান, “আজ দেশের ১৪টি স্থানে একযোগে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের সরাসরি অংশগ্রহণ জনস্বাস্থ্যের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।”
সিলেটের পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সদর হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৪০৭ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে দুঃখজনকভাবে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে সুস্থতার হার ৯৯ শতাংশের বেশি। তিনি Sylhet MAG Osmani Medical College Hospital কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, হাসপাতালটি জরুরি উদ্যোগে ১০ শয্যার পেডিয়াট্রিক আইসিইউ চালু করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চলমান টিকাদান কার্যক্রম, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত উদ্যোগের ফলে অচিরেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নিয়মিত টিকাদান ব্যবস্থার ঘাটতি দূর করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে সিলেটে একটি ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু, সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, “যেমন সড়ক ও সেতু উন্নয়ন জরুরি, তেমনি স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামো উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক সূচকে পিছিয়ে থাকা সিলেটকে এগিয়ে নিতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।”
বাণিজ্যমন্ত্রী অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে মাতৃদুগ্ধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিশুই যেন এই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে টিকাদান কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান এবং মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদি, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোশনূর রুবাইয়াৎ, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, ওয়ার্ল্ড হেলথ ও ইউনিসেফের প্রতিনিধিগণসহ সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।