ভুল এনেস্থেশিয়ায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, যা বলছে ইবনে সিনা কর্তৃপক্ষ

কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :

জামায়াত নিয়ন্ত্রিত সিলেট মহানগরের সোবহানীঘাটস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালে আবারও ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের স্বজনদের দাবি- ভুল এনেস্থেশিয়া প্রয়োগের কারণে তাদের রোগীর মৃত্যু হয়েছে। 

এ ঘটনায় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতভর সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালে উত্তেজনা বিরাজ করে।

পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং আজ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বোর্ড মিটিং বসেছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন পিত্তথলির পাথর অপারেশনের জন্য শুক্রবার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার রাত ১১টার দিকে অপারেশন করার কথা ছিলো সার্জারি চিকিৎসক আহমদ নাসিম হাসান লাভলুর। কিন্তু অপারেশনের আগে রাত ৯টার দিকে এনেস্থেশিয়ায় চিকিৎসক লিটন স্বজনদের জানান- রোগীর ব্রেনে টিউমারসহ অন্যান্য শারিরীক জটিলতা রয়েছে। রোগীর অবস্থা ভালো না। এ কথা শুনে স্বজনরা হতভম্ব হয়ে পড়েন এবং কামাল উদ্দিনের এসব সমস্যা নেই বলে নিশ্চিত করেন। এসময় রোগীর মেয়ে দেখতে পান- এনেস্থেশিয়ায় চিকিৎসকের হাতে কামাল উদ্দিন নয়, ময়না মিয়া নামের এক রোগীর বেশ কিছু রিপোর্ট। এসময় তিনি বলেন- ‘এগুলো আমার আব্বার রিপোর্ট নয়, অন্যজনের।’

এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে লিটনসহ এনেস্থেশিয়ার দায়িত্বে যারা ছিলেন তারা রিপোর্টগুলো দ্রুত লুকিয়ে ফেলেন এবং রোগীর স্বজনদের ‘এগুলো আপনাদের দেখার বিষয় নয়’ বলে ধমকান ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এসময় রোগীর স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সার্জারি চিকিৎসক আহমদ নাসিম হাসান লাভলু ঘটনাস্থলে এসে রোগীর স্বজনদের শান্ত করেন এবং কামাল উদ্দিনের শারীরিক অবস্থা ঠিক আছে, কিছুক্ষণের মধ্যে অপারেশন করে ফেলবেন বলে জানান।

কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরেই স্বজনদের কিছু না জানিয়ে কামাল উদ্দিনকে হুইল চেয়ারে করে অস্বাভাবিক অবস্থায় অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করে নিয়ে যেতে উদ্যত হন সংশ্লিষ্ট স্টাফরা। এসময় কামাল উদ্দিনের ছেলে তাকে দেখে চিনে ফেলেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা এমন কেন জিজ্ঞেস করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বরং জানান- কামাল উদ্দিন মৃত্যুবরণ করেছেন।

এ খবর জানতে পেরে কামাল উদ্দিনের ছেলে-মেয়ে ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ ঘটনায় ইবনে সিনা হাসপাতালে রাতভর উত্তেজনা বিরাজ করে।

এ বিষয়ে সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালের এজিএম ও হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার মোহাম্মদ ওবায়দুল হক কওমি কণ্ঠকে রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বলেন- ‘ওই রোগীর স্বজনদের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এখন এ বিষয়ে বোর্ড মিটিং চলছে।’

অভিযোগ সত্য হলে রোগীর পরিবারের প্রতি কী বক্তব্য বা পদক্ষেপ থাকবে এবং অভিযুক্ত এনেস্থেশিয়ায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ ওবায়দুল হক বলেন- ‘এটি আসলে বোর্ড মিটিংয়েই সিদ্ধান্ত হবে, আমি বলতে পারছি না।’