কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :
শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে লোকজনের সমাগমের ফলে সৃষ্ট দীর্ঘ জটের কারণে পায়ে হেঁটেই সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশ কয়েকজন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে সংসদ ভবনের গেটে আসেন বিএনপির মহাসচিব। এ সময় প্রবেশ পথে দীর্ঘ জটের কারণে অনেক এমপিকে গাড়িতে বসে থাকতে দেখা যায়।
দেখা যায়, জাতীয় সংসদ ভবনের পূর্ব গেটে দীর্ঘ জটের সৃষ্টি হয়। নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানোর জন্য এ সময় অনেক এমপি পায়ে হেঁটে সংসদে প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানসহ বেশ কয়েকজন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে পায়ে হেঁটে ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।
রেওয়াজ অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ আগে পড়ানো হবে। সেই অনুযায়ী প্রথমে দলটি থেকে নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল-বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে সরকার গঠন করবে বিএনপি। এদিকে নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্যরা আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের সভাকক্ষে শপথ গ্রহণ করবেন। আর সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। শপথ ঘিরে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার এই শপথ গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছে। সংসদ ভবন এলাকাকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে কমবেশি ১ হাজার ২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি যোগ দিতে পারেন।
সিইসি নাসির উদ্দিন মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ধাপে ধাপে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ সংসদ সচিবালয়ের এ সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ইসি সচিব বলেন, সংসদ সচিবালয় থেকে সিইসিকে শপথ পাঠের সময় ও তারিখের বিষয়ে পাঠিয়েছে। দুটি শপথই পড়াবেন তিনি। সকাল ১০টা থেকে এ শপথ পাঠ হবে।
সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এ শপথ আয়োজন করা হবে। এক্ষেত্রে দল বা জোটভিত্তিক ও স্বতন্ত্রদের আলাদা আলাদা শপথ পড়ানো হবে।
সকালে সংসদ সদস্যদের শপথের পর বিকালে সংসদে দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ হবে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি।
দুই দফায় সংসদ সদস্যদের শপথ হবে :
নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেছেন, দুই দফায় সংসদ সদস্যদের শপথ হবে। একবার সংসদ সদস্য হিসেবে আরেকবার সংস্কারের জন্য। গতকাল সোমবার সকালে মন্ত্রিপরিষদ ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ দেশের এক সন্ধিক্ষণে আমার দুর্বল স্কন্দে বিশাল দায়িত্ব পড়েছে; আমি তার ভার মেটানোর চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ এবং অতীতে যেভাবে কাজ করেছি একইভাবে কাজ করব; আপনারা সবাই সহায়তা করবেন।’
নাসিমুল গনি বলেন, দুই দফায় সংসদ সদস্যদের শপথ হবে।
তিনি বলেন, সকালে একবার তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। তারপর সংস্কারের জন্য শপথ নেবেন এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ হবে।
সোমবার কোনো তালিকা পাওয়া যাবে কিনা এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন; নতুন মন্ত্রীদের নামের তালিকা তার ওপর নির্ভর করছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা যোগাযোগ স্থাপন করব তারপরে যখন বলা হবে তখন নামগুলো সবাই জানতে পারবে ইনশাআল্লাহ। কারণ ওটা কতজনের মন্ত্রিসভা হবে সেটা উনারাই ভালো বুঝবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা প্রস্তুতি থাকে তারপরেও কম বেশি হতে পারে। নতুন কিছু নাই; তালিকা পাওয়ার পরে তাদের জন্য যে অন্যান্য সাপোর্ট যেমন একজন মন্ত্রীর জন্য একটি গাড়ি লাগে; একজন দেহরক্ষী থাকেন তার বাসস্থান কোথায় হবে; সেগুলোর ব্যবস্থা করতে হয় এবং তার সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হয়; তার অফিসকে এলার্ট করতে হয়; তার নিজস্ব যে সমস্ত অফিসার কর্মচারী কাজ করবেন তাদের নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হয়; এ সমস্ত কিছু আমাদের দেখতে হয়।’
এসব বিষয়ে প্রস্তুত রয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই সরকার সব সময় প্রস্তুত থাকে; সরকার ফেল করে না। আমরাও ফেল করব না।’
সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে সিইসিকে চিঠি: সিইসিকে সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর জন্য সংসদ সচিবালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে, আমরা পেয়েছি।
গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় পায়। দলটি এককভাবে ২০৯টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। শরিক দলগুলোসহ বিএনপি জোটের আসন ২১২। এ ছাড়া ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। প্রায় দুই যুগ পর আবার সরকার গঠন করছে বিএনপি।
১ হাজার ২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি থাকবেন : মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে কমবেশি ১ হাজার ২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি অংশ নিতে পারেন। সে অনুযায়ী আমন্ত্রণ কার্ড প্রস্তুত করা হচ্ছে। সার্বিক প্রস্তুতিও সেভাবে নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি : অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। আর বিকাল ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে। শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আইন উপদেষ্টা জানান, খুব সম্ভবত (নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের) প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় মন্ত্রিসভার শপথ হবে বলে জানান আইন উপদেষ্টা। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত তিনি যতটুকু জানেন, এটি (মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ) রাষ্ট্রপতি পড়াবেন।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়টি বিএনপির পক্ষ থেকে ইচ্ছা প্রকাশ করা হয় বলে উল্লেখ করেন আইন উপদেষ্টা।
এক প্রশ্নের উত্তরে আইন উপদেষ্টা বলেন, শপথ অনুষ্ঠানে প্রথা অনুযায়ী যাদের আমন্ত্রণ জানানোর কথা, সেটাই করা হবে। এটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দেখছে।
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে সাধারণত প্রধান বিচারপতি, অন্যান্য বিচারপতি, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, তিন বাহিনীর প্রধান, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, সাংবাদিক, কূটনীতিক এবং অন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকেন।
ভারতের স্পিকার, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী থাকছেন : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি অংশ নেবেন। ভুটানের পক্ষে অংশ নেবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। এ ছাড়া পাকিস্তানের পক্ষে মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালানন্দা শর্মা, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ খলিল ও শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসা অংশ নিতে যাচ্ছেন।
তবে কূটনৈতিক একটি সূত্র জানিয়েছে, শেষ মুহূর্তে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ খলিলের পরিবর্তে সে দেশের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু ঢাকায় আসতে পারেন।
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত শনিবার চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অন্য দেশগুলো হচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।
দিল্লি থেকে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত শনিবার সন্ধ্যায় আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী একই সময়ে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশগ্রহণের কথা নরেন্দ্র মোদির। তাই প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে লোকসভার স্পিকার দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
বৃহস্পতিবার ভোটের পর শুক্রবার রাতে ২৯৭ আসনে নির্বাচিতদের গেজেট করা হয়। সোমবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসন রেখে বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেন। সেক্ষেত্রে মঙ্গলবার ২৯৬ জন শপথ নেবেন।
বসানো হয়েছে জায়ান্ট স্ক্রিন, ব্যস্ততায় মুখর ভবন :
শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে দক্ষিণ প্লাজার পাশাপাশি পুরো সংসদ ভবন এলাকায়।
গতকাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদেরও। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হয়। প্রয়োজনে অন্য কোনো স্থানে অতিরিক্ত ক্যামেরা স্থাপন করলেও সেগুলোর মনিটরিং করছেন নিরাপত্তায় নিয়োজিত দায়িত্বশীলরা। এ ছাড়া সংসদ ভবন এলাকায় সব সময় গোয়েন্দা পুলিশ ডিউটি করে থাকে পাশাপাশি শপথ অনুষ্ঠান কেন্দ্র করে গোয়েন্দা পুলিশের বাড়তি নজরদারিতে ঢাকা আছে পুরো সংসদ ভবন এলাকা, এমনটাই জানিয়েছেন একটি সূত্র পাশাপাশি অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীরা তো আছেই।
সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সংসদ ভবন এলাকাজুড়ে ছিল ব্যাপক কর্মব্যস্ততা। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে ভবনের ভেতরে ও বাইরে চলে জোরদার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রস্তুতি। দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় নতুন করে বসানো হয় সিসি ক্যামেরা, যা স্থাপনের কাজে র্যাব-এর সদস্যদের সক্রিয়ভাবে কাজ করতে দেখা যায়। একই সঙ্গে দক্ষিণ প্লাজার সামনে দেশীয় গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদেরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
ল²ীপুর-৩ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির বিজয়ী সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথের স্থান পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, শপথ গ্রহণসহ সংসদীয় কার্যক্রম সংবিধান অনুযায়ীই সম্পন্ন হবে। এ নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি বা ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ নেই। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে দল ও নির্বাচিত সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
এ্যানি আরও বলেন, সংসদ দেশের মানুষের আমানত। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং তাদের অধিকার রক্ষাই হবে মূল লক্ষ্য। একটি উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে সংসদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রিপরিষদের আকার ও ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে দলীয় ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শপথের পর সংসদীয় নেতা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব হলো দেশের স্বার্থে কাজ করা। গণতন্ত্র, সংবিধান ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই নতুন সংসদ এগিয়ে যাবে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকছে সংসদ এলাকায়। এ ছাড়া আলাদা ট্র্যাফিক ব্যবস্থা থাকছে।
নতুন সরকারকে সাধারণত রাষ্ট্রপতি শপথবাক্য পাঠ করান এবং স্বাধীনতার পর থেকে তা বঙ্গভবনেই হয়ে আসছে। এবার স্থান বদলের মাধ্যমে সেই রীতি ভাঙতে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ নেয় মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায়।
সেই সরকারকে অস্থায়ী সরকারও বলা হয়। এরপর স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়লাভের পর ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি শপথ নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম সরকার। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সেদিন শপথ নেন মন্ত্রিসভার আরও ১১ সদস্য। ঐতিহাসিক সেই শপথ হয় বঙ্গভবনে, শপথ পড়ান তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।