আলোচনায় সিলেট বিএনপির যেসব নেত্রী

কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :

জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর শপথ প্রক্রিয়া শেষ। সরকার গঠন করেছে বিএনপি। মন্ত্রিসভাও গঠন হয়েছে। এখন দৃষ্টি সংরক্ষিত নারী আসনে। ফলে  সিলেট বিভাগের চার জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে তৎপরতা। 

সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ বায়োডাটা জমা দিচ্ছেন। আড়ালে চলছে অনেক দৌড়ঝাঁপও। এসব নিয়ে দলের অন্দরে হিসাব-নিকাশ চলছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে। 

দায়িত্বশীল কেন্দ্রীয় সূত্র জানিয়েছে, বড় দল হওয়ায় প্রত্যাশীর সংখ্যাও বেশি। তবে সিলেট বিভাগ থেকে দুজন সংরক্ষিত নারী এমপি নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

সিলেট বিভাগে সংরক্ষিত নারী আসনের আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন শাম্মী আক্তার। তিনি দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক। হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক। দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে সক্রিয়। কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ সুদৃঢ়। মিডিয়া ও নীতিনির্ধারণী পরিসরেও পরিচিত মুখ। নির্বাচনি সময়ে সাংগঠনিক সমন্বয়ে ভূমিকার কথা বলছেন নেতাকর্মীরা। তার পক্ষে তৃণমূলের একাংশ সরব।

নারী এমপির তালিকায় আলোচনায় আছেন আন্তর্জাতিকভাবে প্রশিক্ষিত আইনজীবী ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য তার বড় শক্তি। সামিরা প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ও বহুল আলোচিত রাজনীতিক প্রয়াত হারিছ চৌধুরীর কন্যা। তিনি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সিনিয়র কোর্টের প্র্যাকটিসিং সলিসিটর এবং মানবাধিকার, সিভিল লিটিগেশন ও গভর্ন্যান্স বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে দীর্ঘ আইনি অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তিনি দলের ত্যাগী রাজনীতির উত্তরসূরি। তিনি যুগান্তরকে বলেন, দায়িত্ব পেলে নারী ক্ষমতায়ন, আইনের শাসন ও স্বচ্ছ প্রশাসন প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে চাই। 

সৈয়দা আদিবা হোসেন সিলেট-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের কন্যা। যার বাবা এলাকায় নিজ অর্থে অনেক শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ব্যাপক উন্নয়ন করে গেছেন। তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করা। করপোরেট ও সামাজিক উদ্যোগে সক্রিয়। শিক্ষা ও জনহিতকর কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা রয়েছে। আদিবা যুগান্তরকে বলেন, বাবার কাছ থেকেই জনসেবার শিক্ষা নিয়েছি। গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার অঞ্চলের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আছি। তরুণ প্রজন্মকে বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ নিতে চাই। 

আলোচনায় আছেন সাবিনা খান পপি। তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিনের কন্যা। দীর্ঘদিন প্রবাস রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনিও তার বাবার মতো বিএনপির আদর্শের পথ ধরে আমৃত্যু জনসেবা করে যেতে চান। সিলেট অঞ্চল প্রবাসী প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাকে সম্ভাব্য শক্ত প্রার্থী হিসেবে দেখছেন অনেকে।

সিনিয়র নেত্রী হিসেবে সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে মৌলভীবাজারের সাবেক এমপি খালেদা রব্বানীর নাম। তিনি অভিজ্ঞ রাজনৈতিক। দলীয় দুর্দিনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তবে বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, সক্রিয় প্রতিযোগিতা না থাকলেও দল তার অবদান মূল্যায়ন করবে। সম্মানজনক অবস্থান বিবেচনায় থাকতে পারেন তিনি।

এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দল সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা বিএনপির সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফাহিমা কুমকুম। তিনি সিলেট সোসিও ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি নির্ভীক সমাজসেবী ও সংগঠক হিসেবে অসহায় নারী ও শিশু নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে যাচ্ছেন। 

অ্যাডভোকেট রোকসানা বেগম শাহনাজ। তিনি আইন পেশার পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত। নারী নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে আলোচিত হচ্ছেন। 

সামিয়া বেগম চৌধুরী। তিনি কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সভাপতি। দীর্ঘদিন তৃণমূল সংগঠন গড়ে তোলায় কাজ করেছেন। 

হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। 

তাহসিন শারমিন তামান্না। তিনি সিলেট জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় এবং গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা ইফতেখার হোসেন দিনারের বোন। 

জেবুন্নাহার সেলিম। তিনি জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। সাবেক এমপি মরহুম দিলদার হোসেন সেলিমের সহধর্মিণী। দীর্ঘদিন জেলা রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকায় অভিজ্ঞ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। 

সালমা নজির। তিনি সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপি মরহুম নজির হোসেনের সহধর্মিণী। নির্বাচনি সময়ে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা ও ভাটি অঞ্চলে সাংগঠনিক যোগাযোগের কারণে তার নাম জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। 

এছাড়া জেলা ও কেন্দ্র মিলিয়ে আরও কয়েকজন নেত্রী লবিংয়ে। কেউ সংগঠনের পুরোনো মুখ। কেউ নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি। কেউ পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ধারক। কেউ আবার আন্দোলন-সংগ্রামের পরীক্ষিত কর্মী। মোটামুটি এক ডজন নাম ঘুরছে আলোচনায়। দলীয় হাইকমান্ড এখন মাঠের রিপোর্ট নিচ্ছে। এমপিদের মতামতও নেওয়া হচ্ছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট বিভাগে এবার ভারসাম্য রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। সিলেট-সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার এই জোনে সমন্বয় চাইবে কেন্দ্র। নারী সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব, প্রবাস সংযোগ, শিক্ষিত নেতৃত্ব ও তৃণমূল গ্রহণযোগ্যতা এসব কিছু বিবেচনায় আসতে পারে। স্বাধীনতার পর থেকে চার জেলা মিলিয়ে দুইজন সংরক্ষিত নারী এমপি হয়ে আসছেন সিলেটে। 

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য জি কে গউছ বলেন, সিলেটের চার জেলায় কয়জন সংরক্ষিত এমপি হবেন তা দলের হাইকমান্ড দেখছে। কারণ জেলায় জেলায় এমপি দিতে হবে, নারী এমপি দিতে হবে- এমন কোনো বিধান নেই। 

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও নির্বাচন সমন্বয়ক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল। বিভাগের চার জেলা থেকে ডজনের ও বেশি নারী নেত্রীর নাম শুনছি। কেন্দ্র যাচাই বাছাইয়ের পর সিদ্ধান্ত নেবে।


(মূল রিপোর্ট : যুগান্তর)