কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের নিবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। শপথ নিয়েছেন মাত্র একদিন আগে। ঢাকা থেকে নিজের নির্বাচনী এলাকায় ফিরেই ছুটলেন জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে। দীর্ঘ ৩ বছর ধরে অচল গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষিপাশা ইউনিয়নে দেওয়ানের সড়কের ঐতিহাসিক ‘দেওয়ানের পুল’ নামক সেতুটি সচল করতে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের নিয়ে ছুটে গেলেন জনগণের ভালোবাসায় বিজয়ী এই সাংসদ। সবাইকে নিয়ে করলেন পরিকল্পনা। সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিলেন দ্রুত কাজ শুরু করার।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন - ঈদের আগেই প্রস্তাবনা যাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এবং প্রকল্প অনুমোদন হবে। ঈদের পরপরই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে কাজ শুরু হবে এবং কাজ শুরুর দুমাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অপরিকল্পিতভাবে ‘দেওয়ানের পুল’ অর্ধেক ভাঙার ফলে ৩ বছর থেকেই দুর্ভোগে রয়েছেন দু’পারের কয়েক হাজার মানুষ। গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও বড়লেখা উপজেলার মানুষজন এই লিংক রোড দিয়ে সহজেই বিভাগীয় শহর সিলেটে যাতায়াত করতেন। কিন্তু দীর্ঘ ৩ বছর ধরে তারা রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে। তবে এসব মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বৃহস্পতিবার দুপুরে গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সেতুটি পরিদর্শন করেন নতুন সাংসদ। এর আগে ২০ নভেম্বর সেটি পরিদর্শন করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছিলেন এমরান আহমদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য বলেন- আমরা আজ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী সেতুটি পরিদর্শন করতে এসেছি এবং কবে কাজ শুরু করা যায় এ নিয়ে আলাপ করেছি। আমরা ‘দেওয়ানের পুল’-কে আর ক্ষতিগ্রস্ত না করে পাশেই একটি বক্স কালভার্ট করতে চাই। তবে এটি এমনভাবে করা হবে, যাতে পানির আবহ ঠিক থাকে। পাশাপাশি ‘দেওয়ানের পুল’-কে সংস্কার করে সেটি পর্যটন স্পটের মতো করে রাখা হবে, দর্শনার্থীরা যাতে এখানে এসে উপভোগ করেন। এছাড়া বক্স কালভার্ট হওয়ার আগ পর্যন্ত ‘দেওয়ানের পুল’-কে সংস্কার করে এর উপর দিয়ে হালকা যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা আমাদের জানিয়েছেন, ঈদের আগেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাবনা যাবে এবং প্রকল্প অনুমোদন হবে। ঈদের পরপরই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে কাজ শুরু হবে এবং এর দুমাসের মধ্যে শেষ করা হবে ইনশা আল্লাহ।
এমপি এমরান চৌধুরী আরও বলেন- এখানের লিংক রোডও বড় করতে হবে। এর জন্য জমি দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। আশা করি স্থানীয়রা এ বিষয়ে এগিয়ে আসবেন।
‘দেওয়ানের পুল’ পরিদর্শনকালে লক্ষিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামিল আহমদ, আব্দুল আহাদ, দিলাল আহমদ, জালাল আহমদ, আব্দুল করিম মানিক, ঈসমাইল হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি তারেক আহমদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ, জেলা যুবদলের সদস্য লায়েক আহমদ ও মনছুর আহমদ, গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক নিজামুল কাদির লিপন ও লায়েছ আহমদ, যুবদল নেতা মোহন আহমদ ও কামিল আহমদসহ স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।