কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :
ভোটের লড়াই যত ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গ। শুরু হয়েছে ভোটের নানা সমীকরণ। এবার মাঠের ভিন্ন পরিবেশে, ভিন্ন বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভোট নিয়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে সিলেটে পুরুষ ভোটারদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম হতে পারে। সেই শূন্যস্থান পূরণ করে ফল নির্ধারণের প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠতে পারেন নারী ভোটাররা। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার চাপ নির্বাচনি পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে। মামলা, গ্রেফতার, পলাতক আসামি, তদন্তে মন্থরগতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুপস্থিতি মিলিয়ে সিলেটের নির্বাচন অনেকটা অস্বাভাবিক প্রেক্ষাপটেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট জেলার ছয়টি আসনে মোট ভোটার ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৯৫৩ এবং নারী ভোটার ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৬১০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৬ জন। ভোটারদের প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ শতকরা ৪৮ দশমিক ৫ ভাগ নারী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আওয়ামী লীগ ও শরিক দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আর এসব দলের নেতাকর্মীদের আলোচিতরা কেউ জেলে, কেউ আসামি, কেউ পলাতক বা আত্মগোপনে। ফলে পুরুষ ভোটারদের একটি বড় অংশই কেন্দ্রে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে তাদের পরিবার-পরিজন বাসাবাড়িতেই আছেন। ফলে ভোটের ফল নির্ধারণে নারী ভোটাররা হয়ে উঠতে পারেন চূড়ান্তদ্ধ।
আসনভিত্তিক ভোটার পরিসংখ্যানেও নারী ভোটারদের গুরুত্ব স্পষ্ট। সিলেট-১ আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৪৭ এবং পুরুষ ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৮৩ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৩ জন। সিলেট-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯০০ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৮০ হাজার ২৪০ এবং পুরুষ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬০ জন। সিলেট-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৫ হাজার ৯৬৬ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ২৭৮ এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৬৮৬ জন। সিলেট-৪ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৩৩। নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮০১ এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৭ হাজার ১৩১ জন। সিলেট-৫ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৮ হাজার ৭৪৬ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৩৯০ এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৩৫৬ জন। সিলেট-৬ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ৯১ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ৫২ হাজার ১৫৪ এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৩৭ জন।
সিলেটে নির্বাচনি উত্তাপে কালো ছায়া ফেলেছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী মামলা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেট জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার থানাগুলোতে মোট ১৩৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি হত্যা মামলা এবং ১২০টি বিস্ফোরক ও হামলার মামলা। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার জনকে। গ্রেফতার হয়েছে ৩শ জন। তবে মামলা, গ্রেফতার ও মব আতঙ্ক তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে কয়েক লাখ লোককে। এমনকি মামলার আসামি নয় এমন লোকজনও আতঙ্কে আত্মগোপনে।
এই পরিস্থিতিতে সিলেট জেলার ৬টি আসনে মোট ৩৩ প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াত জোটের শক্তিশালী প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীরাও লড়াইয়ে আছেন। রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা, মামলা পরিস্থিতি ও ভোটার উপস্থিতির অনিশ্চয়তার মধ্যেই এগোচ্ছে নির্বাচন। সব মিলিয়ে নারী ভোটারদের সক্রিয়তা, মামলার চাপ ও রাজনৈতিক সমীকরণ মিলিয়ে সিলেটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়ে উঠেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক এক রাজনৈতিক পরীক্ষাক্ষেত্র। এই পরীক্ষয় নারী ভোটের ভূমিকা আগাম আঁচ করতে বাড়ি বাড়ি নারী কর্মী পাঠিয়ে ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত জামায়াত। এর বিপরীতে বিএনপি ও তাদের নির্বাচন সঙ্গীদের প্রচারণা হাটে-ঘাটে-মাঠে বেশি হলেও বাসা-বাড়িতে ভোট প্রার্থনার তৎপরতা কিছুটা কম।
(মূল রিপোর্ট : যুগান্তর)