কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :
সিলেটের মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবিদুর রহমানের বিরুদ্ধে ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান পদে নিয়মবহির্ভুতভাবে নিয়োগ প্রদান-চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কলেজের ইংরেজি বিভাগের ‘সিনিয়র প্রভাষক’ মো. মাহবুবুর রউফের অভিযোগ- এ দায়িত্ব তিনি পাওয়ার কথা থাকলেও ওই বিভাগের আরেক প্রভাষক সৈয়দা ফাতেমা সুলতানাকে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষ উঠেপড়ে লেগেছেন।
মো. মাহবুবুর রউফ বলেন- মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের ইংরেজি’র বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন পার্থসারথি নাগ। তিনি গত বছরের ডিসেম্বরে অবসরে যান। এরপর নিয়ম অনুযায়ী মাহবুবুর রউফ এ পদে দায়িত্ব পাওয়ার কথা। কিন্তু তার পরিবর্তে অনুজ সহকর্মী সৈয়দা ফাতেমা সুলতানাকে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবিদুর রহমান।
এ বিষয়ে মাহবুবুর রউফ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) কলেজের অধ্যক্ষ বরাবরে ই-মেইলে একটি আবেদনপত্র দিয়েছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন- ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লিখিত নির্দেশ অনুযায়ী আমি মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পদে বিভাগের সিনিয়র শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করার নিয়ম আছে। যেহেতু ইংরেজি বিভাগের সদ্যবিদায়ী বিভাগীয় প্রধান জনাব পার্থসারথি নাগ-এর অবসরজনিত কারণে বিভাগীয় প্রধানের পদ শূন্য রয়েছে। তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ইংরেজি বিভাগের পরবর্তী সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে আমার বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করার কথা। কিন্তু আমি এখন পর্যন্ত বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো লিখিত চিঠি পাইনি।’
মাহবুবুর রউফ পত্রে আরও উল্লেখ করেন- ‘আমি ও আমার সহকর্মী ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক সৈয়দা ফাতেমা সুলতানা কলেজে একই দিনে যোগদান করলেও মেধা ও বয়সের দিক দিয়ে আমি এগিয়ে আছি। ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নীতিমালা অনুযায়ী কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান দায়িত্ব পালনের জন্য আমি এর যোগ্য দাবিদার।’
এ প্রভাষক বলেন- ‘বর্তমানে আমি উচ্চশিক্ষার জন্য ইউকে-তে আছি। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ ইংরেজি’র বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালনের জন্য আমাকে চিঠি দিলে আমি দ্রুত দেশে এসে পদটিতে যোগদান করবো ইনশাআল্লাহ।’
এ বিষয়ে মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবিদুর রহমান কওমি কণ্ঠকে বলেন- ‘ওই প্রভাষক ২০১৯ সালে কলেজ থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন। তখন আমি দায়িত্বে ছিলাম না। এ বিষয়ে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে তাকে পুনর্বহালের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চিঠি দিয়েছিলো। কিন্তু কলেজের গভর্নিং বডি এ চিঠির বিরুদ্ধে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আপিল করেন। সে আপিলের রায় এখনো হয়নি। তাই মাহবুবুর রউফকে কলেজের পক্ষ থেকে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি।’
ইংরেজি’র বিভাগীয় প্রধান পদে নিয়োগ নিয়ে অধ্যক্ষ বলেন- ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী এ পদে নিয়োগ হবে। আপিলের রায়ে যদি মাহবুবুর রউফ কলেজে পুনর্বহাল হন এবং নিয়ম অনুযায়ী তিনি বিভাগীয় প্রদান হন তবে এখানে আমার তো কোনো বক্তব্য থাকতে পারে না।’