প্রথম নির্বাচিত হয়েই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে মুক্তাদীর

কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :

সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে প্রয়াত বাবা খন্দকার আবদুল মালিকের আসনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। এরপর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য 

আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপির দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে সিলেটে কণ্টকময় পথ পাড়ি দিয়েছেন মুক্তাদীর। তারই ফল পেলেন সরকারের সবচেয়ে ‘হট সিট’ খ্যাত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী ইউনিয়নের আহমদপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

বাবা প্রয়াত খন্দকার আবদুল মালিক ছিলেন বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। সিলেটের চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির  প্রতিষ্ঠাতাও তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনে দুই সন্তানের জনক খন্দকার মুক্তাদীর সিলেট ক্যাডেট কলেজ থেকে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় (ব্যবসায় প্রশাসন-ফিন্যান্স) স্নাতকোত্তর, রাষ্ট্রবিজ্ঞান (সামাজিক বিজ্ঞান) স্নাতকোত্তর, কলা বিভাগ (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়) স্নাতক করেন।

বাবার রাজনীতির সুবাদে পরিবারেই রাজনীতির হাতেখড়ি হয়ে যায় মুক্তাদীরের।

বাবা খন্দকার আবদুল মালিক সদ্য জন্ম নেওয়া রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৯ সালে সিলেট-৮ (বর্তমান সিলেট-১) নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। এরপর স্বৈরাচারী শাসকের কবল থেকে দেশ মুক্ত হওয়ার পর ১৯৯১ সালে খন্দকার মালিক ফের বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে ওই আসনে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালেও তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন। 
তবে চতুর্থ দফায় আর নির্বাচন করেননি আবদুল মালিক।

এরপর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত সাইফুর রহমান। ২০০১ ও ২০০৮ সালে দুটি নির্বাচন শেষে এম সাইফুর রহমান মারা গেলে বাবার আসনটি পুনরুদ্ধারে তৎপর হন খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। তখন থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়।

২০১৬ সাল তাঁকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে তাকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।

তবে সেই নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে খন্দকার মুক্তাদীর এক লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের হাবিবুর রহমান পেয়েছেন এক লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৩ ভোট। প্রায় তিন দশক পর বাবার আসনে সংসদ সদস্য হলেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর।

মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন স্থানীয়ভাবে সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। এর মাধ্যমে এই আসনে পূর্বসূরিদের মতো তিনিও বড় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এর আগে এই আসনে ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী স্পিকার নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে এম সাইফুর রহমান এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হন। 

এরপর ২০০৯ সালে ও ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য হয়ে অর্থমন্ত্রী হন আওয়ামী লীগের আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২০১৮ সালে এখানে সংসদ সদস্য হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন এ কে আবদুল মোমেন। এবার বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র পাটমন্ত্রী হলেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর।

সফল ব্যবসায়ী হিসেবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরের সুনাম রয়েছে। দেশের পোশাক ও উৎপাদন শিল্পে তিনি পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) সাবেক পরিচালক, তুরস্ক-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সুবিধা কমিটি সদস্য। 

মুক্তাদীর রপ্তানিমুখী ব্যবসায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে বেসরকারি খাতের উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সহজীকরণে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে সমাদৃত। এবার সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি নতুন দায়িত্বেও সফল হবেন বলে ধারণা সিলেটবাসীর।