কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই মহাযজ্ঞের শেষ প্রস্তুতি হিসেবে
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই সিলেটের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে শুরু করেছে ব্যালট পেপার, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম।
সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ট্রেজারি শাখা থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রিসাইডিং অফিসারদের হাতে নির্বাচনী সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়। কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম। সকাল থেকে সিলেট জেলা প্রশাসক ও রিটানিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভোটের ব্যালেট পেপার, ব্যালেট বাক্সসহ অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রী বুঝিয়ে দেয়া হয় সংশ্লিষ্টদের কাছে।
এবারের নির্বাচনে ভোটাররা দুটি ভিন্ন রঙের ব্যালটে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য সাদা রঙের ব্যালট এবং গণভোটের জন্য গোলাপি রঙের ব্যালট ব্যবহার করা হবে। ভোটগ্রহণ চলবে টানা বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের ৪টি জেলায় ১৯টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৯১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫৪ জন এবং নারী ভোটার ৪৪ লাখ ১২ হাজার ১৩৩ জন।
বিভাগজুড়ে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২,৮৮১টি। এর মধ্যে ১,১২৬টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ (অতি গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এরমধ্যে সিলেট জেলায় মোট ১০১৬টি কেন্দ্র। এর মধ্যে ২১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোটার ৩১ লাখ ১৩ হাজার ৩৯৬ জন। সুনামগঞ্জ জেলায় মোট ৬৬৪টি কেন্দ্র। এর মধ্যে ৪৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ (সর্বোচ্চ)। মোট ভোটার ২২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৩ জন। হবিগঞ্জ জেলায় মোট ৬৪৭টি কেন্দ্র। এর মধ্যে ২৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোটার ২০ লাখ ৭ হাজার ৮৭৯ জন। মৌলভীবাজার জেলায় মোট ৫৫৪টি কেন্দ্র। এর মধ্যে ২২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোটার ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৮৮ জন।
বিশেষ করে সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে আজ সকাল থেকেই হেলিকপ্টার ও নৌপথে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা হিসেবে সিসি ক্যামেরা ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়।