কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :
বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং বাস্তবায়নের দাবিতে টানা আন্দোলন করছেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কর্মচারীরা।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) তারা দ্বিতীয় দিন বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে দুই ঘন্টার অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
রবিবারও (১ ফেব্রুয়ারি) দুই ঘণ্টা কর্মসূচি পালন করা হয় এবং আগামীকাল মঙ্গলবার একই কর্মসূচি পালন করা হবে।
বিক্ষোভকারী সরকারি কর্মচারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য কর্মচারীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছেন। সদাশয় অন্তর্বর্তী সরকার বাহাদুর কর্মচারীদের প্রতি সহনশীল হয়ে একটি পে কমিশন গঠন করেন। উক্ত কমিশন ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় বরাবর রিপোর্ট দাখিল করায় কর্মচারীরা আশায় ছিলেন পে কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন হবে। সম্প্রতি একজন সম্মানিত উপদেষ্টার এক মন্তব্যে-‘অর্ন্তবর্তী সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না’ সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।
কর্মচারীরা আরও জানান- বাস্তবতা হলো, আজ একজন ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীর মাসিক আয় দিয়ে পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে উঠছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসাভাড়া ও নিত্যপণ্যের ব্যয় বেড়েছে বহুগুণ, কিন্তু আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবত তারা পে-স্কেলের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু সরকার তাদের পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য ন্যুনতম/সম্মানজনক বেতন-ভাতা প্রদান করছেন না। কিভাবে তারা ধৈর্য ধারণ করবেন? তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন।
কর্মচারী মো. মুর্তজ আলীর সভাপতিত্বে ও দিলীপ কুমার রায়ের পরিচালনায় অবস্থান ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মো. জয়নাল আবেদীন, জনাব সুযোগ চন্দ্র চন্দ, শহীদুল ইসলাম, মুনতাসির মামুন, মনির হোসেন, স্বপন মজুমদার, মো: নূরুজ জামান, আবুল বাশার, মো: মুছাব্বির আলী, মো. অলি মিয়া, মো. নাহিদ ও শরিফা আক্তার প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে ১ ফেবুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিন দুই ঘন্টা করে নিজ নিজ দপ্তরে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। এর মধ্যে দাবি আদায় না হলে ৬ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ এবং প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখী ভুখা মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।